Friday, January 31, 2020

জানুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকায় ৮ বাংলাদেশি নিহত- যুগান্তর।

নিহত
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দক্ষিণ আফ্রিকায় ৮ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। চোর ডাকাতের গুলি, ডাকাতের দেয়া আগুনে পুড়ে ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এসব বাংলাদেশি প্রবাসীদের মৃত্যু হয়।
অপরাধপ্রবণ দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি প্রবাসীরা প্রতিনিয়ত মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে আসলেও বিগত ২০১৯ সাল থেকে এদেশে বাংলাদেশির মৃত্যুর হার আশংকাজনক হারে বেড়েছে।
অধিকাংশ বাংলাদেশিরা দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যবসা বানিজ্য করার কারণে প্রতিনিয়ত চোর ডাকাতের টার্গেট হয়ে থাকে।
সাধারণত দোকানপাটে চুরি ডাকাতির সময় অধিকাংশ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও কিছু কিছু মৃত্যু বাংলাদেশিদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ব্যবসায়িক শত্রুতা ও নারী সংঘটিত কারণে ঘটে থাকে। যে সব হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হয়না।
এদিকে চলতি জানুয়ারি মাসে সর্বপ্রথম বাংলাদেশি নাগরিক খুনের শিকার হয় ১৩ জানুয়ারি।
দেশটির ইষ্টার্ণক্যাপ প্রভিন্সের পোর্ট এলিজাবেথ শহরে বাংলাদেশি প্রবাসী ব্যবসায়ী মুহাম্মদ হারুন টাকা নিয়ে ব্যাংকে যাওয়ার সময় নিজ গাড়িতে ডাকাতের গুলিতে নিহত হয়।
নিহত হারুনের বাড়ি ফেনীর দাগন ভূঁইয়া। ২২ জানুয়ারি শাকিল আহামদ নামে আরেক বাংলাদেশি নাগরিক নিজ দোকানে ডাকতের গুলিতে প্রান হারান।
নিহত শাকিলের বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দিতে।অপর দিকে ২৫ জানুয়ারি আবুল হাসনাত ও নুর মোহাম্মদ নামে অপর দুই বাংলাদেশি নিহত হয়।নুর মুহাম্মদ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
নুর মুহাম্মাদের বাড়ি চট্টগ্রামের মিরশরাইতে এবং একইদিন আবুল হাসনাত নিজ দোকানের কর্মচারীর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হয়।আবুল হাসনাতের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে।
২৬ জানুয়ারি উওম বনিক নামে আরেক প্রবাসী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে জোহানসবার্গ হাসপাতালে মৃত্যু বরণ করেন। উওম বনিকের বাড়ি সিলেটের হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে। ২৭ জানুয়ারি মোহাম্মদ আলী নামে আরেক প্রবাসী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। মোহাম্মদ আলীর বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচংয়ে।
সর্বশেষ ২৯ জানুয়ারি মুহাম্মদ বায়োজিদ নামে আরেক বাংলাদেশি নিজ দোকানে ডাকাতের গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। নিহত বায়েজিদের বাড়ি জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জে। এ নিয়ে নানা ঘটনা দুর্ঘটনায় মোট ৮ জন বাংলাদেশি দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রাণ হারিয়েছেন।

Thursday, January 30, 2020

বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনতে বিমান পাঠানো হচ্ছে উহানে

বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনতে বিমান পাঠানো হচ্ছে উহানে
চীনে মরণঘাতী করোনাভাইরাসের আক্রমণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭০ জনে। আক্রান্তের সংখ্যা ৭ হাজার ছাড়িয়েছে। এদিকে, করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে অবরুদ্ধ চীনের উহানে আটকে পড়া ৩৪১ জন বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনতে বিমান পাঠানো হচ্ছে। শুক্রবার দুপুরে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট তাদের আনতে চীনের উদ্দেশে রওনা হবে।
জানা গেছে, শনিবার রাতে চীনের উহান থেকে ৩৪১ বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনা হবে। এদের কেউই করোনা ভাইরাস আক্রান্ত নয়; তবু নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের আশকোনা হাজী ক্যাম্পে রাখা হবে। সেখানে কমপক্ষে ১৪ দিন তাদের থাকতে হতে পারে। শুক্রবার সকাল ৯:৩০ মিনিটে হাজী ক্যাম্প পরিদর্শনে যাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।
এর আগে করোনাভাইরাসের কারণে চীনে থাকা বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনতে সরকার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ‘চীন থেকে ৩৭০ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরতে চান। আমরাতো তাদের আনতে রেডি। যখনই তারা আসতে চাইবে এবং চাইনিজ সরকার এ্যালাও করবে আমরা সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে আসবো। শুনেছি কোনো কোনো দেশ তাদের কূটনীতিকদের নিয়ে গেছে সেই ফাঁকে যদি অন্য কাউকে নিয়ে যায় সেটা জানি না।’ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরাম-২০২০’ এর সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের যারা ছেলে-মেয়ে আছে প্রায় ৩৭০ জনের তালিকা করা হয়েছে। ২২টা প্রতিষ্ঠানে ওরা ছড়িয়ে আছে। বিশেষ করে উহানের কথা বলছি, এমনিতেই চাইনিজরা যেটা করেছে সেটা হচ্ছে তাদের অসুখ-বিসুখ হলে চাইনিজ সরকার চিকিৎসা দিবে। আর আমরা এখানে মোটামাটিভাবে রেডি।’

বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ

Thursday, January 9, 2020

পেনসিলভেনিয়ায় সিটি কাউন্সিলম্যান পদে ৩ বাংলাদেশির শপথ

বিডিনিউজ২৪.কম
তারা হলেন- মো. নূরুল হাসান, মাহাবুবুল আলম ও শেখ মোহাম্মদ সিদ্দিক। গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মতো জয়ী হন এই তিন ডেমোক্রেটিক প্রার্থী।
সোমবার এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাদের শপথ পড়ান বিচারক হ্যারি জে কারাপলাইডস। তাদের মেয়াদ চার বছরের।
শপথ নিচ্ছেন শেখ সিদ্দিক
শপথ নিচ্ছেন শেখ সিদ্দিক
শপথ নিচ্ছেন মাহবুবুল আলম
শপথ নিচ্ছেন মাহবুবুল আলম
মিলবোর্ন সিটি কাউন্সিলম্যান মো. নূরুল হাসান ও মাহাবুবুল আলম দুজনেই চট্টগ্রামের সন্তান। শেখ মোহাম্মদ সিদ্দিকের বাড়ি মানিকগঞ্জে।তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ‘পিপলএনটেক’ ফিলাডেলফিয়া অফিসের প্রধান কর্মকর্তা নূরুল হাসান মিলবোর্ন বরোর নির্বাচিত কাউন্সিলম্যানদের ভোটে ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। এবারও তেমন সম্ভাবনা বলে শোনা যাচ্ছে।
এদিকে আগামী নির্বাচনে পেনসিলভেনিয়া রাজ্যের অডিটর জেনারেল পদে লড়ছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান নীনা আহমেদ। তিনি দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার এশিয়ান-আমেরিকান বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। এছাড়া ফিলাডেলফিয়া সিটির ডেপুটি মেয়রের দায়িত্বও পালন করেছেন।

চীনে সড়ক দুর্ঘটনায় রাজবাড়ীর শিক্ষার্থী নিহত

যুগান্তর
তুরাগ চৌধুরী ওরফে রিক
তুরাগ চৌধুরী ওরফে রিক। ছবি: সংগৃহীত
চীনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন রাজবাড়ী সদর উপজেলার তুরাগ চৌধুরী ওরফে রিক (২০) নামে এক শিক্ষার্থী।
মঙ্গলবার রাতে চীনের জিয়াংসুর চ্যাংঝুয়াং-এ অটোবাইকযোগে ছাত্রাবাসে ফেরার পথে দুর্ঘটনাকবলিত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত রিক উপজেলার দাদশী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি রোকন উদ্দিন চৌধুরীর নাতি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদার ফারুক চৌধুরীর ছেলে।
নিহতের ফুফাতো ভাই আরিফুল ইসলাম রোমান জানান, রিক চীনের চ্যাংঝু ভোকেশনাল ইন্সটিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং-এ হোটেল ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে লেখাপড়ার পাশাপাশি পার্টটাইম চাকরি করতেন। মঙ্গলবার রাতে কর্মস্থল থেকে অটোবাইকযোগে ফেরার পথে দুর্ঘটনাকবলিত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে চ্যাংঝু ইন্সটিটিউট কর্তৃপক্ষ ফোনে রিকের পরিবারকে জানিয়েছে। লাশ দেশে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
নিহত রিকের বাল্যবন্ধু সোহানুর রহমান শুভ জানান, ‘রিক ২০১৭ সালে রাজবাড়ী সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে ঢাকার তেজগাঁও কলেজে ভর্তি হয়। সেখানে এইচএসসি অধ্যয়নরত অবস্থায় ২০১৮ সালের মে মাসে স্কলারশিপ নিয়ে চীনে চলে যায়।

দ্বীপটিতে থাকা-খাওয়া ফ্রি, মাসে পাবেন ৪৮ হাজার টাকা

যুগান্তর 
অ্যান্টিক্যাথেরা দ্বীপ
অ্যান্টিক্যাথেরা দ্বীপ। ছবি: সংগৃহীত
কংক্রিটের এই জীবন থেকে ছেড়ে যদি পেতে চান নির্মল বাতাস, আর প্রাকৃতিক জীবন; তাহলে এটি আপনার জন্য সুখবর।
গ্রিসের এথেন্স থেকে উড়োজাহাজে ৪৫ মিনিটের পথ। আর দ্বীপটির নাম অ্যান্টিক্যাথেরা। নিরিবিলিতে পরিবারসহ সারাজীবন কাটিয়ে দিতে চাইলে চলে যেতে পারেন এই দ্বীপে। খবর দ্য টেলিগ্রাফের।
এখানে বসবাসের জন্য গ্রিস সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি পরিবারকে দেয়া হবে বিনামূল্যে বাড়ি ও খাবার। সঙ্গে প্রতি পরিবারকে দেয়া হবে ৫০০ ইউরো, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪৭ হাজার ৬০০ টাকা।
বর্তমানে এই দ্বীপে মাত্র ২৪ জন মানুষের বাস। গ্রিস প্রশাসন চাইছে সেখানকার জনসংখ্যা বাড়াতে। তাই বাইরে থেকে মানুষ এনে এখানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির চেষ্টা করছে প্রশাসন।
তবে গ্রিস সরকার সেই সব পরিবারকে অগ্রাধিকার দিতে চাইছে যাদের অন্তত ৩টি সন্তান রয়েছে। এই দ্বীপে বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট সবই আছে।

গ্রিসে দোয়েল সংগঠনের উদ্যোগে বাংলাদেশে শীতবস্ত্র বিতরণ

যুগান্তরঃ

শীতবস্ত্র
বাংলাদেশ দোয়েল সাংস্কৃতিক সংগঠন ও দোয়েল একাডেমির উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। ৫ জানুয়ারি উত্তরাঞ্চলের অসহায় শীতার্থ মানুষের মাঝে এ শীতবস্ত্র বিতরণ করেন সংগঠনের কর্মীরা।
সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. নাজমুল হকের পরিচালনায় বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে অসহায় শীতার্থ মানুষের সঙ্গে বিজয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়ার জন্য সভাপতি আব্দুর রহিম মোল্লা শীতবস্ত্র বিতরণের প্রস্তাব করেন।
বাংলাদেশ দোয়েল একাডেমির পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন দেওয়ান, সভাপতি আব্দুর রহিমের সঙ্গে একমত হন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রদূত মো. জসীম উদ্দিন (এনডিসি), দূতাবাসের কাউন্সিলর মো. খালিদ ও দূতাবাসের কাউন্সিলর ড. সৈয়দা ফারহানা নুর চৌধুরী।
বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রীসের সভাপতি হাজী মো. আ. কুদ্দুস ও সিনিয়রসহ সভাপতি হাজী আহসানউল্লাহ্ হাসান এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ইন গ্রিসের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাজী মোশারফ হোসেন লিয়াকত, বৃহত্তর ঢাকা কমিউনিটি ইন গ্রিসের সভাপতি হাজী মোক্তার হোসেন, বাংলাদেশ দোয়েল একাডেমির সহকারী সচিব মো. ইসমাইল হোসেন রনি, বৃহত্তর ফরিদপুর কমিউনিটি ইন গ্রিসের সভাপতি মো. আবিদ হানজালা ও গ্রীস বিএনপি’র সভাপতি মো. মোখলেছুর রহমান, বাংলাদেশ দোয়েল সাংস্কৃতিক সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি আ. কুদ্দুস শিকদার, উপপ্রধান উপদেষ্টা আব্দুর রাজ্জাক টিটো, সহসভাপতি শওকত ইমাম, সহসভাপতি জাহিদুল হক, সহসভাপতি আনাম মোহাম্মদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রায়হান খান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক শেখ শাহীন আক্তার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শামীম আশরাফ, সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক পাভেল ভূইয়া, প্রচার সম্পাদক মো. শিমুল হোসেন, আপ্যায়ন সম্পাদক সুজন গাজী, মহিলা সম্পাদিকা নুরুন্নাহার (নানী), সহ মহিলা সম্পাদিকা হাসিনা সুলতানা নীলা, বাংলাদেশ দোয়েল একাডেমির শিক্ষিকা খন্দকার মেভিজ পরমা ও মহিলা সম্পাদিকা বিথি খলিফা, সহসম্পাদিকা নূরজাহান শিউলী প্রমুখ।

মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীদের রেমিট্যান্সে দেশ দাঁড়িয়ে আছে

যুগান্তর।
রেমিটেন্স
মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিট্যান্সে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখছে। বৈধপথে টাকা পাঠিয়ে প্রতিবছর সি আই পির মর্যাদা পাচ্ছেন মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীরা।
সরকারের ঘোষিত অর্থনৈতিক মুক্তাঞ্চলে প্রবাসীদের জন্য আলাদা অঞ্চল গঠনের দাবি জানিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ২ দিনব্যাপী মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম বিজনেস সাম্মিটে এ দাবি জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল দুবাই এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
৭ এবং ৮ জানুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক নগরী দুবাইয়ের একটি অভিজাত হোটেলে এ সাম্মিটে বিশ্বের ২০টি দেশের ৫০০ প্রবাসীর উপস্থিতি ছিল।
এ সময় নিশ্চিন্তে বাংলাদেশ বিনিয়োগ করতে বিদেশিদের আহ্বান করা হয়। স্থানীয় আরবীসহ নানা দেশের বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহীরা এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রথম দিনে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান, দুবাইয়ে নিযুক্ত কনসাল জেনারেল ইকবাল হোসেন খানসহ বিশ্বের নানাদেশ থেকে আসা বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নেতারা। দ্বিতীয় দিনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল দুবাইয়ের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর কামরুল হাসান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সভাপতি সি আইপি মাহতাবুর রহমান নাসির, সহসভাপতি সি আইপি মাহবুবুল আলম, রাজা মল্লিক, সাম্মিটের আহ্বায়ক আইয়ুব আলী বাবুল ও সদস্য সচিব সাইফুদ্দিন আহমদসহ আরও অনেকে।
২ দিনেই নানা প্যানেলে দেশের রেমিটেন্স, গার্মেন্টস, শ্রম শিল্প, রপ্তানি ও আমদানি শিল্পের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। সম্ভাবনাময় বাংলাদেশে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যের নানা দেশের বিনিয়োগের কথা তুলে ধরে অন্য দেশেরও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের নানা মুক্তাঞ্চলে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়।
২ দিনব্যাপী জমকালো এ আয়োজনের শেষ দিনে বাংলাদেশের ঐতিহ্য নাচে গানে তুলে ধরেন বাংলাদেশ থেকে আগত শিল্পীরা। গানে মাতান দেশের বরেণ্য শিল্পী পিন্টু ঘোষ।

বাংলাদেশ থেকে বিনা খরচে শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া!

যুগান্তর

মালয়শিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী এম কুলা সেগারান
মালয়শিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী এম কুলা সেগারান।
বাংলাদেশ থেকে বিনা খরচে শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া। এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন মালয়শিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী এম কুলা সেগারান।
সোমবার দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রী এম কুলা সেগারান বলেছেন, নেপালের কর্মী নিয়োগের অনুরূপ চুক্তি করা হবে বাংলাদেশের সঙ্গে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
তবে ব্যয় ও স্বচ্ছতা ব্যবস্থার সমাধান হওয়ার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠাবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ।
রোববার এ কথা বলেছিলেন বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী। তার একদিন পরই বাংলাদেশ থেকে বিনা খরচে শ্রমিক নেয়ার বার্তা এলো মালয়শিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রীর কাছ থেকে।
স্থানীয় সময় ৭ জানুয়ারি দেশটির মালয়েশিয়াকিনি নামক দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ, মালয়েশিয়ায় মার্কিন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি এড়ানোর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ থেকে ‘শূন্য-ব্যয়ে’ কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ হতে সুযোগ সৃষ্টি করে মালয়শিয়ার সরকার। ২০১৮ সালের ৩০ আগস্ট সে সুযোগের মেয়াদ শেষ হয়। এ সময়ের মধ্যে বহু বাংলাদেশি বৈধ হন। তবে বৈধ হওয়ার সুযোগ পেয়ে বহু বাংলাদেশি নিবন্ধিত হয়েও প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলেও জানা গেছে।
এরপর ২০১৯ সালের ১ আগস্ট থেকে অবৈধ অভিবাসীদের নিজ দেশে ফিরতে সরকার ‘ব্যাক ফর গুড’ কর্মসূচি চালু করে। গত ৩১ ডিসেম্বরে কর্মসূচিটি শেষ হয়েছে।

Thursday, January 2, 2020

শিল্প ও বাণিজ্য প্রবাসী আয়ে রেকর্ড

প্রবাসী আয়ে রেকর্ড
সদ্য সমাপ্ত বছরে বাংলাদেশের প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ রেমিট্যান্সের পরিমাণ ১৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে। রপ্তানি কমে যাওয়ার মধ্যে তেজি রেমিট্যান্স প্রবাহ অর্থনীতিতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এ ছাড়া ডলারের বিপরীতে টাকার দর স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করেছে।

২০১৯ সালে বিভিন্ন দেশ থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা এক হাজার ৮৩৩ কোটি ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়েছেন। ২০১৮ সালের তুলনায় বেড়েছে ২৭৮ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ। এর আগে এত বড় অংকের রেমিট্যান্স কোনো বছরে আসেনি। প্রণোদনা কার্যকরের পর শেষ ৬ মাসে রেমিট্যান্স বেশি বেড়েছে। শেষ ৬ মাসে বেশি এসেছে ৪৮ কোটি ডলার।

গত জুলাই থেকে ২ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা, ডলারের দর বৃদ্ধি, খোলাবাজারের সঙ্গে ব্যাংকিং চ্যানেলের দরের পার্থক্য কম থাকাসহ নানা কারণে প্রবাসী আয়ে অনেক উন্নতি হয়েছে। আবার এজেন্ট ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন উপায়ে টাকা নেওয়ার সুযোগও রেমিট্যান্স বাড়ানোর ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। কোনো ঝামেলা ছাড়াই সুবিধাভোগীকে প্রণোদনার অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সুবিধাভোগী সহজে যেন বিদেশ থেকে পাঠানো রেমিট্যান্সের অর্থ নিতে পারেন এ লক্ষ্যে মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে সরাসরি বিতরণের সীমা ৩০ হাজার থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। একবারে ১৫শ' ডলার পর্যন্ত অর্থ পাঠালে কোনো প্রশ্ন ছাড়াই প্রণোদনার অর্থ সুবিধাভোগীকে দিতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছর বিবেচনায় গত ৬ মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ২৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ৯৪০ কোটি ডলার সমপরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। ২০১৮ সালের একই সময়ে এসেছিল ৭৫০ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক কাজী ছাইদুর রহমান সমকালকে বলেন, রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে প্রণোদনা। সরকারের দূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে অনেকে এখন ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে আকৃষ্ট হচ্ছেন। আগামীতেও রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা করেন।

চাহিদা বৃদ্ধির ফলে গত কয়েক বছরে ডলারের দর বেড়ে যায়। ২০১৬ সাল থেকে ডলারের দর একটু করে বেড়ে ৭৮ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৮৪ টাকা ৯০ পয়সায় উঠেছে। এর মানে, গত চার বছরে প্রতি ডলারের দর বেড়েছে ৬ টাকা ২০ পয়সা। এ সময়ে খোলাবাজারের দরের সঙ্গে ডলারের দরে অনেকটা সামঞ্জস্য এসেছে। আগে ব্যাংকিং চ্যানেলের সঙ্গে খোলাবাজারে ডলারের দরে ৩ থেকে ৪ টাকা পার্থক্য ছিল। এখন ব্যবধান ১ টাকার নিচে নেমেছে।

ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরফান আলী সমকালকে বলেন, আগে সরাসরি ব্যাংকের শাখা থেকে রেমিট্যান্স নিতে অনেক দূরে যেতে হতো। এখন এজেন্ট ব্যাংকিং বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বাড়ির পাশের আউটলেট থেকেই সুবিধাভোগীরা টাকা তুলতে পারছেন। সরকারের প্রণোদনা রেমিট্যান্স বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে। আগামীতে রেমিট্যান্স আরও বাড়বে। কেননা, এখন অনেক ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে নামছে।

সাধারণভাবে প্রতি বছরই রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি দুই অঙ্কের ওপরে থাকে। তবে ২০১৫ সাল থেকে টানা তিন বছর কমে যায় রেমিট্যান্স। বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে সরকার। সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যংকের বিভিন্ন পর্যালোচনায় উঠে আসে, মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে সহজে হুন্ডি, দীর্ঘদিন ধরে টাকার দর এক জায়গায় স্থিতিশীল থাকাসহ বিভিন্ন কারণে রেমিট্যান্স কমছিল। তবে হুন্ডি ঠেকাতে নানা উদ্যোগসহ বিভিন্ন কারণে রেমিট্যান্স বেড়েছে। যে কারণে রপ্তানি কমলেও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার ৩২ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে।

রেমিট্যান্স ছাড়া অর্থনীতির অন্য অনেক সূচকের গতি কমে গেছে। গত নভেম্বর পর্যন্ত চলতি অর্থবছরের পাঁচ মাসে রপ্তানি আয় কমেছে ১৩০ কোটি ডলার বা ৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ। রাজস্ব আয়ে লক্ষ্যমাত্রার অনেক নিচে আছে সরকার। গত অক্টোবর পর্যন্ত রাজস্ব আয়ে মাত্র ৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। 
 
সমকাল