Monday, April 27, 2020

কোভিড-১৯করোনায় নিউইয়র্ক সিটি পুলিশের সার্জেন্ট চাঁদপুরের জিয়াউলের মৃত্যু

নিউইয়র্ক সিটি পুলিশের সার্জেন্ট চাঁদপুরের জিয়াউল আহসান
নিউইয়র্ক সিটি পুলিশের সার্জেন্ট চাঁদপুরের জিয়াউল আহসান। ছবি: যুগান্তর
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন নিউইয়র্ক সিটি পুলিশের সার্জেন্ট বাংলাদেশের জিয়াউল আহছান।
তিনি চাঁদপুর শহরের হাজী মহসীন রোডের বাগ-এ-আহছান নামক বাড়ির ছেলে। তার বাবা ভাষাসৈনিক মরহুম অ্যাডভোকেট এ এফ এম ফজলুল হক।
নিউইয়র্কে জিয়াউল আহসানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ভাই সুফিয়ান আহসান।
তিনি জানিয়েছেন, ২৫ দিন ধরে প্রাণঘাতী করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করে রোববার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১০টায় জিয়াউল আহছান মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৪৯ বছর। করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২ এপ্রিল থেকে নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুর শহরের গনি মডেল হাইস্কুল থেকে এসএসসি ও চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন জিয়াউল আহসান। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৭ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান।

Sunday, April 26, 2020

বাহরাইন থেকে ফিরলেন ১৩৮ বাংলাদেশি

বাহরাইন থেকে ফিরলেন ১৩৮ বাংলাদেশি
বৈশিক মহামারী করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যে বাহরাইন থেকে ১৩৮ জন দেশে ফিরেছেন। এসব বাংলাদেশিরা দেশটিতে আটকা পড়েছিলেন।
একটি বিশেষ ফ্লাইটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রোববার বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে পৌঁছান তারা।
রোববার গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদ-উল-আহসান। তিনি বলেন, দেশে ১৩৮ বাংলাদেশিদের করোনা আছে কিনা- সেটির সার্টিফিকেট নেই। তাই তাদের হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে ১৯৮ বাংলাদেশির মৃত্যু

শনিবার মৃত্যুবরণকারী বাংলাদেশিরা হলেন মিজানুর রহমান, ফরিদ আহমেদ ছাইদুল, বাবলী নেওয়াজ ও মহিউদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত
শনিবার মৃত্যুবরণকারী বাংলাদেশিরা হলেন মিজানুর রহমান, ফরিদ আহমেদ ছাইদুল, বাবলী নেওয়াজ ও মহিউদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও চার বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার মৃত্যুবরণকারী বাংলাদেশিরা হলেন মিজানুর রহমান, ফরিদ আহমেদ ছাইদুল, বাবলী নেওয়াজ ও মহিউদ্দিন। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় ১৯৮ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হলো।
রোববার বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
করোনায় মৃত্যু হওয়া বাবলী নেওয়াজ বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব পারফর্মিং আর্টসের সহসভাপতি ছিলেন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২৫ এপ্রিল ভোরে জ্যামাইকার কুইন্স হাসপাতালে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি জ্যামাইকায় বসবাস করতেন। তার স্বামী অনেক আগে মৃত্যুবরণ করেছেন। দুই সন্তান মুনমুন নেওয়াজ ও তৃণা নেওয়াজ এবং এক নাতনিকে রেখে গেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসের আক্রমণে ৫৪ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
নিউইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যে এখন মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজারেরও বেশি। আর করোনা আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছে ২ লাখ ৭১ হাজার ৫৯০ জন। প্রতিদিন গড়ে এক হাজার করে নতুন সংক্রমণের রোগী হাসপাতালে যাচ্ছেন। নিউইয়র্কে দিনে ২০ হাজার মানুষের করোনা টেস্ট করা সম্ভব হচ্ছে। অচিরেই এ টেস্টের সংখ্যা ৪০ হাজারে নিয়ে যাওয়া হবে বলে গভর্নর জানিয়েছেন।
গভর্নর কুমো বলেছেন, তিনি নির্বাহী আদেশে রাজ্যের ফার্মেসিগুলোতে করোনাভাইরাস টেস্টিং সুবিধা বিস্তৃত করছেন। ফার্মেসিগুলো টেস্টিং উপাত্ত গ্রহণ করে ল্যাবে পাঠাবে। ল্যাব থেকে টেস্টিং করে ফলাফল ফার্মেসিতে ফেরত পাঠাবে। ফলে দ্রুত রাজ্যের অধিকাংশ মানুষের জন্য করোনাভাইরাস টেস্টিং সুবিধা বিস্তৃত হবে। নগরীর ফার্স্ট রেসপন্ডার, জরুরি বিভাগ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টেস্ট করা হচ্ছে। এরপরই এমটিএ, পুলিশসহ সামনের সারির জরুরি কর্মীদের অগ্রাধিকার দিয়ে টেস্টিং করা হবে। দ্রুতই নিউইয়র্কের সর্বত্র টেস্টিং সুবিধা সহজলভ্য করা হবে বলে গভর্নর জানিয়েছেন।
নগরীর মেয়র বিল ডি ব্লাজিও জানিয়েছেন, নগরীতে করোনায় আক্রান্ত মানুষের গড় বয়স দেখা গেছে ৫১ বছর। নগরীতে আক্রান্তের মধ্যে ৫২ শতাংশ পুরুষ এবং ৪৮ শতাংশ নারী বলে এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে।

ইতালিতে করোনা মহামারীতে প্রবাসীদের পাশে বাংলাদেশি দূতাবাস

ইতালিতে করোনা মহামারীতে প্রবাসীদের পাশে বাংলাদেশি দূতাবাস
বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে আর্থিক সমস্যা থাকায় ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন রোমে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত ২৫ লাখ টাকা ইতালির বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রবাসীদের সহযোগিতা দেয়া হয়।
গোটা ইতালি এখন লকডাউন থাকায় সরাসরি কেউ যেতে পারছেন না বলে দূতাবাস ঘোষিত জোন ভিত্তিক দোকান থেকে প্রবাসীরা নামের তালিকা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী সংগ্রহ করতে পারবেন বলে দূতাবাস থেকে জানানো হয়।
সম্প্রতি দূতাবাস একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রবাসীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এতে বলা হয়, যে সব প্রবাসী করোনাভাইরাসের কারণে আর্থিক অসুবিধায় আছেন, তারা দূতাবাসের সঙ্গে ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করে সহযোগিতা নিতে পারেন।
পরে বাংলাদেশিরা দূতাবাসে ইমেইল পাঠাতে থাকেন। দূতাবাসের কাছে মোট ১৮শ' ইমেইল আসে। এরমধ্যে যাচাই-বাছাই করে প্রকৃতপক্ষে যাদের খারাপ অবস্থা এমন ৬শ' জনকে সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে রোমে বাংলাদেশ দূতাবাসের (শ্রম ও কল্যান) কাউন্সিলর এরফানুল হক জানান, সরকারের পক্ষ থেকে প্রবাসীদের সহযোগিতা করতেই আমরা কাজ করছি। খুব স্বচ্ছতার সাথে এ সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে বাংলাদেশিদের মাঝে।
প্রত্যাককে যাচাই করে অসুবিধায় থাকা ব্যক্তিদেরই কেবল সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। ৬শ' জনের মধ্যে রোমে ২৫০, নাপলি ৭৫, দক্ষিণ সিসিলির পালেরমো ৭৫, বারি শহর, কাতানিয়া, আনকোনা ও ফ্লোরেন্সে ৫০ জনকে এ প্রণোদনা দেয়া হয়।
তিনি জানান, রোমে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আব্দুস সোবাহান সিকদারের সার্বিক সহযোগিতায় এই অর্থ প্রবাসীদের মাঝে বন্টণ করা হয়েছে।

কানাডায় করোনায় সপ্তম বাংলাদেশির মৃত্যু কানাডায় করোনায় সপ্তম বাংলাদেশির মৃত্যু

মোহাম্মদ আবু নাসের
মোহাম্মদ আবু নাসের। ছবি: যুগান্তর
কানাডার টরেন্টোতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরও এক প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার টরন্টোর ডেভেনপোর্ট এলাকায় অ্যাপার্টমেন্টে তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে করোনাভাইরাসে দেশটিতে সাত বাংলাদেশির মৃতু হলো।
মৃত প্রবাসীর নাম মোহাম্মদ আবু নাসের (৭১)। তার দেশের বাড়ি নোয়াখালী জেলার চাটখিলে। তবে ঢাকার ফার্মগেট এলাকার জাহানারা গার্ডেনে দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে থাকতেন। তিনি ২০০৬ সালে কানাডায় যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার টরন্টোর ডেভেনপোর্ট এলাকায় অ্যাপার্টমেন্টে মোহাম্মদ আবু নাসের মৃত্যু হয়। তার স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছেন। তবে মৃত্যুকালে আপন কেউ তার কাছে ছিলেন না।
তার বড় ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন এবং বাকি ছেলে মেয়েরা দেশে থাকেন। কিছুদিন আগে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে দেশে বেড়াতে যান এবং একাই কানাডা ফেরেন।
শনিবার অপরাহ্নে রিচমন্ড হিলের সেমিটারিতে তাকে ধর্মীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।
উল্লেখ্য, অটোয়ায় গত ৪ এপ্রিল শরিয়তুল্লাহ, ৫ এপ্রিল টরন্টোতে মুক্তিযোদ্ধা হাজী তুতিউর রহমান, ১০ এপ্রিল ওমর শেখ ও জামাল আলী, ১৭ এপ্রিল বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট সালাম শরিফ, ১৮ এপ্রিল শওকত আলী মারা যান।
কানাডায় এখন পর্যন্ত ৪৫ হাজার ৫৮৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৪৯০ জনের এবং সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ১৬ হাজার ৫১৯ জন।

করোনায় সৌদিতে মৃত্যুর মিছিলে আরও এক বাংলাদেশি, মোট ৩৯

ইসমাইল হোসেন (সেলিম)
ইসমাইল হোসেন সেলিম। ছবি-সংগৃহীত
মহামারী করোনাভাইরাসে সৌদি আরবে আরও এক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে।এ নিয়ে দেশটিতে ৩৯ বাংলাদেশির মৃত্যু হলো।
রোববার রাতে সৌদি আরবের জেদ্দায় মারা গেছেন ইসমাইল হোসেন সেলিম। সৌদি আরবের জেদ্দায় কিং আবদুল আজিজ হাসপাতালে প্রায় দুই সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ইসমাইল হোসেনের বয়স হয়েছিল ৪৫ বছর।
ইসমাইল দীর্ঘদিন ধরে জেদ্দা কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি এয়ারলাইনসের একটি কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার ৫ নম্বর ছয়ানী ইউনিয়নের খোয়াজপুর চাপরাশিতে।
এ পর্যন্ত সৌদি আরবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশিদের মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৯ জনে।

Monday, April 6, 2020

শিক্ষককে বাঁচাতে মধ্যরাতে স্ত্রীসহ রক্ত দিলেন এমপি আজিজ


 
 
 
 
 
 
 
 
 
এমপি ডা. আবদুল আজিজ তার স্ত্রী ডা. হাফিজা সুলতানা। ছবি : আমাদের সময়

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার এক শিক্ষকের জীবন বাঁচাতে সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. আবদুল আজিজ সস্ত্রীক রক্ত দিয়েছেন। গতকাল রোববার মধ্যরাতে ঢাকার ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে (বারডেম) ভর্তি ওই শিক্ষককে তারা রক্ত দেন।
জানা গেছে, রোববার বিকেলে তাড়াশ ইসলামিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুস সালাম হার্টের সাতটি ব্লক নিয়ে ওপেন হার্ট সার্জারির জন্য ওই হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে অপারেশনের জন্য ছয় ব্যাগ (এবি+) রক্ত লাগবে জানিয়ে নিজ ফেসবুক আইডিতে স্ট্যাটাস দেন ওই শিক্ষক।
পরে রাত ১১টার দিকে তার আবেগঘন স্ট্যাটাসটি সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের এমপি অধ্যাপক ডা. আবদুল আজিজের নজরে আসে। এরপরে তিনি গুলশানের বাসা থেকে স্ত্রী ডা. হাফিজা সুলতানাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। সে সময়ে তার গাড়িচালক ঘুমিয়ে পড়ায় তাকে না ডেকে নিজেই গাড়ি চালিয়ে রওনা হন শাহবাগের ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে। সেখানে শিক্ষক আবদুস সালামকে দেখে তার চিকিৎসার খোঁজ-খবন নেন।
পরে স্ত্রীসহ এমপি আজিজ তাদের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করে অবশিষ্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে তিনি ও তার স্ত্রী দুই ব্যাগ রক্ত দেন। পরে হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে ওই শিক্ষককের চিকিৎসা বিষয়ে আলোচনা শেষে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এ সময় প্রধান শিক্ষক আবদুস সালাম ওই সাংসদ ও তার স্ত্রীর মানবিকতা দেখে কেঁদে ফেলেন। তিনি সবার কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া চান।